শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ইনভেস্টিগেশন

কারারক্ষী-আইনজীবীর ছদ্মবেশে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ২

কারারক্ষী ও আইনজীবীর ছদ্মবেশে অভিনব কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা

শেয়ার Facebook X LinkedIn WhatsApp Telegram Email
কারারক্ষী-আইনজীবীর ছদ্মবেশে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ২

কারারক্ষী ও আইনজীবীর ছদ্মবেশে অভিনব কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো- মো. আব্দুস সালাম (৪৯) ও মো. সুরুজ (২৬)। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

ডিবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তাররা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করত। পরে ওই জনপ্রতিনিধিদের ফোন করে কৌশলে সংশ্লিষ্ট এলাকার আসামিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করত তারা। এরপর আসামিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের একজনকে ‘কারারক্ষী সাইফুল, কারাগার প্রধান ফটক, কাশিমপুর কারাগার’ হিসেবে পরিচয় দিত। পরিবারের সদস্যদের জানানো হতো, তাদের নিকটাত্মীয়ের জামিন নির্ধারিত আইনজীবীর মাধ্যমে নয়, বরং মানবাধিকার সংস্থার আইনজীবী ‘সিরাজ’-এর মাধ্যমে হয়েছে।

এ সময় আইনজীবী পরিচয়ে কথা বলার জন্য প্রতারক চক্রের অপর সদস্যের একটি মোবাইল নম্বর দেওয়া হতো। ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা ওই নম্বরে ফোন করলে প্রতারক নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে নরম স্বরে কথা বলত এবং জানাত, আসামির জামিন হয়েছে। আদালতের অন্যান্য প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং তার হাতে সময় কম। এরপর ভুক্তভোগীদের কাছাকাছি কোনো দোকানের বিকাশ পার্সোনাল নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হতো। পরিবারের সদস্যরা ওই নম্বরে টাকা পাঠানোর পর প্রতারক টাকা তুলে নিয়ে মোবাইল নম্বরটি বন্ধ করে দিত এবং মুহূর্তের মধ্যে দোকানের এলাকা থেকে সরে পড়ত।

ডিবি সূত্র আরও জানিয়েছে, গত ১ জুলাই হাতিরঝিল থানায় করা বিকাশ/নগদ প্রতারণার মামলা তদন্তকালে এ অভিনব প্রতারণার বিষয়টি ডিবি পুলিশের নজরে আসে। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩ টা ৫০ মিনিটে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের একটি দল গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এসময় তাদের হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অপরিচিত কারও কথায় যাচাই-বাছাই ছাড়া আর্থিক লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছে ডিবি। অনলাইনে বা মুঠোফোনে কারও পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় পরিচয় নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার Facebook X LinkedIn WhatsApp Telegram Email